দুদকের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি বন্ধ করতে শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে: দুদক সচিব

হেফাজতে ইসলাম নেতাদের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে প্রয়োজনে গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদক সচিব ড. মুহা. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার এ কথা বলেন।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ওই ব্রিফিং অনুষ্ঠিক হয়। দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে কমিশনের দ্বিতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ ব্রিফিং দেন সচিব। কমিশন সভায় কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মোজাম্মেল হক খান, কমিশনার (তদন্ত) মো. জহুরুল হক, সচিব ড. মুহা. আনোয়ার হোসেন হাওলাদারসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, হেফাজতের নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠির জবাব পাওয়া গেলে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে আইনের সব ধরনের প্রক্রিয়া মেনে কাজ করা হবে। যদি প্রয়োজন হয় এ ক্ষেত্রে গোয়েন্দাদের তদন্তের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে। কারণ তারাও রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান। কাজ করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনে একে অপরের সহায়তা নেওয়া হবে।

হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির আমির জুনায়েদ বাবুনগরী, মহাসচিব নুরুল ইসলাম জেহাদীসহ পঞ্চাশ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। এছাড়া হেফাজত নেতাদের সঙ্গে সংশ্নিষ্ট ১৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। বিলুপ্ত হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব রিসোর্টকাণ্ডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক মাওলানা মামুনুল হকের ব্যাংক হিসাবে ছয় কোটি টাকার লেনদেন, মানিলন্ডারিং ও নানা সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে।

 

জানা গেছে, কমিশনের বুধবারের সভায় ২৬টি বিষয়ে আলোচনা হয়। এর আগের কমিশন সভার কার্যবিবরণীর অনুমোদন দেওয়া হয় এ সভায়। সভায় অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্ত নিয়ে কিছু সিদ্ধান্ত হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সচিব আরও বলেন, কমিশন সভায় অনুসন্ধান ও তদন্ত এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কীভাবে শক্তিশালী করা যায় এবং এগুলোকে আরও জবাবদিহিতার মধ্যে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অনেক সময় দেখা যায়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান, তদন্ত শেষ করা সম্ভব হয় না। এটা কঠোর মনিটরিংয়ের মধ্যে আনা হবে, যাতে সময়মতো কাজগুলো শেষ করা যায়। কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিৎ করতে হবে। যদি কোনো কাজে কমিশন মনে করে, তদন্তকারী কর্মকর্তার রিপোর্টের ভিত্তিতে বুঝা যায়, তদন্ত শেষ করতে দেরি হয়েছে, কিংবা তদন্ত যথাযথভাবে হয়নি অথবা তদন্তে কোনো ত্রুটি রয়েছে, সেক্ষেত্রে সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তার কাছে জবাব চাওয়া হবে। এখন থেকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে অনুসন্ধান, তদন্ত সংক্রান্ত কার্যক্রম।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেই কাজ করার প্রতিশ্রুতি এই কমিশনের। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম হবে না। কমিশন সবসময় সবকিছুতে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেবেকমিটির রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি। আর কমিটি করা হয়েছে করোনাকালীন সময়ে। কমিটিকে একটি সময় দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিপোর্ট পাব বলে আশা করছি। কমিটি অফিসে বসে কোনো রিপোর্ট তৈরি করবে না। কমিটি বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলবে, গণমাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলবে। তারপর পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করা হবে। পরে কমিশন সেই রিপোর্ট পর্যালোচনা করে বাস্তবায়ন করবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের নিয়ে কথা থাকে, থাকবে, হয়ত ভবিষ্যতেও থাকবে। সে কারণেই অনুসন্ধান, তদন্ত কার্যক্রম নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে, যাতে কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিৎ করা যায়।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন