ইসরায়েলের বর্বরতায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো চুপ কেন: প্রধানমন্ত্রী

 

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলাকে অমানবিক উল্লেখ করে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নিরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “প্যালেস্টাইনে যে ঘটনা ঘটেছে সেই ঘটনা সত্যিই অমানবিক। ছোট্ট শিশুদের কান্না এবং তাদের সেই অসহায়ত্ব, তার মাতৃ-পিতৃহারা হয়ে ঘুরে বেড়ানো এটা সহ্য করা যায় না।

ইসরায়েল এভাবে আগেও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে জানিয়ে তার তীব্র নিন্দা জানান প্রধানমন্ত্রী।

ফিলিস্তিনে নিহতদের তাদের আত্মার মাগফেরাতও কামনা করেন শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, “যারা অনেক সময় মানবতার এত কথা বলে কিন্ত এই সময় অনেকেই চুপ থাকে। আন্তর্জাতিক বহু সংস্থা এখন আর কথা বলে না…সেটাই আমার প্রশ্ন।

“আমরা প্যালেস্টাইনের ভাইদের সাথে সব সময়ই আছি। আমাদের সব ধরনের সহযোগিতা আমরা অতীতেও করেছি এখনও আমরা করে যাচ্ছি, অবশ্যই করে যাব।”

প্রয়াত আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরুকে স্মরণ করে সংসদে শেখ হাসিনা বলেন, “(জাতির পিতাকে হত্যার পর) আমাদের বিচার চাওয়ার অধিকার ছিল না। সেই অধিকারটা প্রতিষ্ঠা করার জন্য তিনি যে কষ্ট করেছেন, মামলা পরিচালনা করার জন্য কিংবা সকলে মিলে যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাই।

“তার (মতিন খসরু) ভেতরে আমি দেখেছি সবসময় একটা শক্তি ছিল। কারণ এই মামলা করাটা এত সহজ ছিল না, অনেক বাঁধা ছিল। কিন্তু তারপরও তিনি দিনরাত পরিশ্রম করেছিলেন। সেটা আমি সব সময় স্মরণ করি।”

ঢাকা-১৪ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য আসলামুল হককে আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আন্দোলন, সংগ্রাম, সব কিছুতেই তিনি ভূমিকা নিয়েছিলেন। এলাকার জন্য কাজ করে বারবার নির্বাচিত হয়েছিলেন। সাধারণ মানুষের প্রতি তার অন্যরকম একটা দরদ ছিল এবং এলাকার উন্নয়নের জন্য সব থেকে নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন।”

এছাড়াও বাংলা একাডেমির সভাপতি ও সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীর কথাও স্মরণ করে তাদের স্মৃতিচারণ করেন শেখ হাসিনা।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার বিকাল ৫টায় একাদশ সংসদের ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।

এই অধিবেশনেই বৃহস্পতিবার বিকালে আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

সাম্প্রতিক অন্য অধিবেশনগুলোর মতো এবারও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংসদ চলবে। এক্ষেত্রে কোভিড-১৯ নেগেটিভ সনদ থাকা সংসদ সদস্যরাই অধিবেশনে যোগ দিতে পারবেন। প্রতিদিন ১০০-১২০ জন সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে বসবে সংসদের বৈঠক।

অধিবেশনের শুরুতে সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন করেন স্পিকার। এবার অধিবেশনে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা হলেন- শহীদুজ্জামান সরকার, এবি তাজুল ইসলাম, মাজহারুল হক প্রধান, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, রুমানা আলী। স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে এদের মধ্যে অগ্রবর্তীজন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন।

সভপতিমণ্ডলী মনোনয়নের পর স্পিকার শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন