সাংবাদিক রোজিনাকে গ্রেপ্তার ‘দুঃখজনক’: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সচিবালয়ে পাঁচ ঘণ্টার বেশি আটকে রাখার পর রাষ্ট্রীয় গোপন নথি চুরির চেষ্টার অভিযোগে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে দুঃখজনক অগ্রহণযোগ্য হিসাবে বর্ণনা করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কে আব্দুল মোমেন।

যে অফিসে রোজিনাকে আটক করা হয়েছিল, সেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এটা ‘ম্যানেজ করা উচিত’ ছিল মন্তব্য করে মোমেন বলেন, “আমরা বলতে পারি এটা সরকারের জন্য দুঃখজনক ঘটনা।”

প্রশ্নের দিকে ইঙ্গিত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “আপনি হয়ত সঠিক, গুটিকয় লোকের জন্য বদনামটা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এটা ফেইস করতে হবে। অনেকে আমাদের এই নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন। আমরা এ ধরনের ঘটনা চাই না।”

রাষ্ট্রীয় গোপন নথি ‘চুরির চেষ্টার’ অভিযোগে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের এক কর্মকর্তার কক্ষে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।

পরে রাতে তাকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করে ব্রিটিশ আমলের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ও দণ্ডিবিধির কয়েকটি ধারায় মামলা করে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ।

রোজিনা ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আর তার সহকর্মীরা বলেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘অনিয়ম-দুর্নীতি’ নিয়ে প্রতিবেদন করায় তাকে ‘হয়রানি’ করা হচ্ছে ব্রিটিশ আমলের এক আইন ব্যবহার করে।

সচিবালয়ে আটকে রাখার সময় রোজিনাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয় বলেও অভিযোগ করেছে তার পরিবার। পুলিশ রোজিনাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করলেও মঙ্গলবার ঢাকার একটি আদালত তা খারিজ করে দেয়।

রোজিনা ইসলামের জামিন আবেদনের ওপর বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে আদেশ অপেক্ষমান রেখেছেন ঢাকার মহানগর হাকিম বাকী বিল্লা।

 

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বুধবার ঢাকার কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে সাংবাদিকরা।

জামিন আবেদনের শুনানি চলার মধ্যে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ঢাকায় দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং-কিউনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন।

তিনি বলেন, “যেহেতু এটা বিচারাধীন আছে, এটার ডিটেইল নিয়ে আমি কথা বলতে পারি না, আমার বিষয়ও না। একমাত্র বিষয়, এটা দুঃখজনক ঘটনা। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সেটাই আমি আশা করব।”

রোজিনাকে আটক ও গ্রেপ্তারের ঘটনাকে ‘অনভিপ্রেত ও অগ্রহণযোগ্য’ হিসাবে বর্ণনা করে মোমেন বলেন, “সংবাদমাধ্যম দেশের বিরাট কাজ করছে। আপনাদের কারণে সেই বালিশের কাহিনী শুনেছি, আপনাদের কারণেই আমরা সেই লাখ টাকার সুপারি গাছের কথা শুনেছি। আপনাদের কারণেই আমরা শাহেদ করিমের মত তথ্য পেয়েছি এবং সরকার অ্যাকশন নিয়েছে প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে।

“আপনারা সরকারকে সাহায্য করছেন, আপনারা সরকারের অংশ। তবে কোনো ক্ষেত্রে অসুবিধাজনক অবস্থার সৃষ্টি হলে আমাদের সরকারের জন্য অসুবিধা হয়।”

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক দুদিন আগে সাংবাদিকদের বলেছিলন, রোজিনা টিকা আমদানি সংক্রান্ত এমন কিছু নথি ‘সরিয়েছিলেন’ যেগুলো প্রকাশ হলে ‘দেশের ক্ষতি’ হতে পারত।

এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নথি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের পিএসের কক্ষে থাকার সুযোগ আছে কিনা- এমন প্রশ্নে মোমেন বলেন, “আছে। তাদেরও থাকতে পারে। যেমন ধরেন… কো-প্রডাকশন করতে গিয়ে আমরা যে অথরাইজেশনটা করলাম, সেখানে হয়ত কিছু তথ্য, আমি জানি না, হয়ত থাকতে পারে।

”সিক্রেসি কিছু থাকতে পারে। কিন্তু আমি সেটা জানি না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলতে পারবে। তবে এটা দুঃখজনক ঘটনা।”

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন