সাংবাদিক রোজিনার ন্যায় বিচার চাইলেন শাকিব খান

প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে প্রায় ৬ ঘন্টা আটকে রেখে হেনস্তা এবং মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আদালতের কাছে তার শতভাগ ন্যায়বিচার চেয়েছেন ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খান।

বুধবার শাকিব খান বলেন, ‘সুসাংবাদিকতা করতে গিয়ে রোজিনা ইসলাম যেভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছেন তা মোটেও কাম্য নয়। এতে করে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথকে সংকুচিত করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে রোজিনা ইসলাম যেন শতভাগ ন্যায়বিচার পান সেই কামনা করছি।’

 

নিজের ভ্যারিফাইড ফেসবুকে পেজে শাকিব খান লিখেন,দুদিন ধরে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের কয়েকটি স্থিরচিত্র দেখছি আর বিস্মিত হচ্ছি। দেশ ও বিশ্ব গণমাধ্যমে তাঁকে ঘিরে তৈরি প্রতিবেদনগুলো পড়ছি আর ভাবছি, আমার সোনার বাংলাদেশের ভাবমূর্তি কোথায় গিয়ে ঠেকেছে!

একজন সৎ সংবাদকর্মী তো কখনোই রাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ নন। বরং তিনি সমাজ তথা দেশের দর্পণ হিসেবে কাজ করেন। দেশের উজ্জ্বলতম অনুসন্ধানী সাংবাদিকের এমন দশায় উদ্বিগ্ন হই, মনটা ভারাক্রান্ত হয়।

 

দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে সাংবাদিকতা করে রোজিনা ইসলাম দেশে ও দেশের বাইরে থেকে পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার। এ পর্যন্ত তিনি যেসব অসংগতি, দুর্নীতি জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন, সেগুলোর সবই কাঠখড় পুড়িয়ে বের করে আনা তথ্য; যা বস্তুনিষ্ঠ এবং জনগণের মঙ্গলময়।

কিন্তু সুসাংবাদিকতা করতে গিয়ে রোজিনা ইসলাম যেভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছেন তা মোটেও কাম্য নয়। এতে করে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথকে সংকুচিত করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে রোজিনা ইসলাম যেন শতভাগ ন্যায়বিচার পান সেই কামনা করছি।

সাংবাদিকতার মাধ্যমে রোজিনা ইসলাম দেশের বাইরে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন উল্লেখ করে শাকিব খান লিখেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে সাংবাদিকতা করে রোজিনা ইসলাম দেশে ও দেশের বাইরে থেকে পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার। এ পর্যন্ত তিনি যেসব অসংগতি, দুর্নীতি জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন, সেগুলোর সবই কাঠখড় পুড়িয়ে বের করে আনা তথ্য; যা বস্তুনিষ্ঠ এবং জনগণের মঙ্গলময়।’

সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান রোজিনা। এরপর সরকারি নথি ‘চুরি’ করার অভিযোগে সেখানে তাকে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রাখা হয়। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ তাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়। এর প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়।

মামলাটি করেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব ডা. শিব্বির আহমেদ ওসমানী। এতে দণ্ডবিধির দুটি ধারায় গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি চুরি এবং অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের দুটি ধারায় রাষ্ট্রীয় গোপন নথি দখলে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন