অক্সিজেন-ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত সহ জাতীয় পরিকল্পনার জন্য রিট আবেদন

 

ফাইল ছবি

করোনাভাইরাস সঙ্কট মোকাবেলায় অক্সিজেন ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে একটি জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়নের আদেশ চেয়ে হাই কোর্টে একটি আবেদন হয়েছে।

এই আবেদনে ১৮ বছরের বেশি বয়সী সব নাগরিককে টিকা দেওয়ার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

সোমবার হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জনস্বার্থে রিট আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব ও মোহাম্মদ কাওছার।

মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য আবদনটি উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী পল্লব।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জীবন ধারণের অধিকার সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার। যে কারণে সবাইকে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের টিকা দেওয়া সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে আবেদনে বলা হয়েছে,টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সরকার ন্যূনতম ৪০ বছর বয়স সীমা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু এর কম বয়সী যারা বিভিন্ন স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছেন তারাও আক্রান্ত হচ্ছে।

টিকার পাশাপাশি অক্সিজেন ও ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি জাতীয় পরিকল্পনা (স্বল্প মেয়াদী, মধ্য-মেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী) প্রণয়নে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এই রুল চাওয়া হয়েছে আবেদনে।

রিট আবেদনকারী আইনজীবী পল্লব গণমাধ্যমকে বলেন, “করোনাভাইরাস প্রতিনিয়ত তার রূপ বা ধরণ পাল্টে নতুন রূপে আবির্ভূত হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন থেকে দেখা যাচ্ছে যে, করোনাভাইরাস শিগগিরই নির্মূল হচ্ছে না। তাই এটি মোকাবেলায় প্রয়োজন একটি সমন্বিত জাতীয় পরিকল্পনা।”

প্রতিবেশী দেশ ভারতের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের নতুন অতিসংক্রমণশীল প্রকরণ মোকাবেলা করতে গিয়ে ভারতের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ইতোমধ্যে ভেঙে পড়েছে। অক্সিজেনের অভাবে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী মারা যাচ্ছে। টিকার অপ্রতুলতা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও হাসপাতালের স্বল্পতা বিষয়টিকে আরও মারাত্মক করে তুলেছে।

বাংলাদেশে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারকে গত শনিবার আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছিল জানিয়ে আইনজীবী পল্লব বলেন, সরকারের কোনো দপ্তর থেকে সাড়া না পাওয়ায় রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য সচিব, মুখ্য সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, পরিকল্পনা সচিব, রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে মানবাধিকার সংগঠন ল’ এন্ড লাইফ ফাউন্ডেশন’র পক্ষ থেকে নোটিসটি পাঠানো হয়েছিল; রিট আবেদনে তাদের বিবাদী করা হয়েছে।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
লাইভ রেডিও
সর্বশেষ সংবাদ